সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ ধুপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনকারী সন্ত্রাসী কাসেম বাহিনীর হামলায় আহত আব্দুল হামিদের স্বপনের মৃত্যু হয়েছে । তার মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া হাজারও মানুষের আহাজারিতে আকাশ বাতাস বারি হয়ে উঠে।
বিশ^ম্ভরপুর থানায় অবস্থিত আদাংনদীর তীরে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে স্বপনকে। জানাযায় সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাঘবের গ্রামের বাসিন্দা ভূমি মালিক আব্দুল হামিদ স্বপনের উপর পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। গত ১৭ই এপ্রিল হামলার ঘটনাটি ঘটে। জানা যায় ১৫/২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্র লোহার রড, পাইব, দাড়ালো অস্ত্র রামদা দিয়ে কাটা রক্তাক্ত জখমসহ হাত পা ভেঙ্গে দেয় আব্দুল হামিদ স্বপনের। ঘন্টাব্যাপি স্বপনের উপর চলে সন্ত্রাসী কাশেম বাহিনীর নির্যাতনের ষ্টিম রোলার। হাত পা ভেঙ্গেও ক্রান্ত হয়নি সন্ত্রাসী কাশেম ও তার বাহিনী। অবশেষে তাকে নদীর পাড়ে একটি খালি জায়গায় নিয়ে গিয়ে আবার ও অমানুষিক ভাবে একর পর এক আঘাতের উপর আঘাত শুরু করতে থাকে স্বপনের উপর। গ্রাম বাসির সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে চলে সন্ত্রাসী কাশেম বাহিনীর কার্যক্রম।


ঘটনাটি ঘটে গত ১৭ই এপ্রিল আনুমানিক সকাল ১১/১২টার দিকে ১নং সলুকাবাদ ইউনিয়নের পুরান মথুরকান্দি গ্রামস্থ জনৈক মধু মিয়ার বাড়ির সামনে ধুপাজান চলতি নদী আদাং নদীর পাড়ে বেড়ী বাধের পূর্ব পাশে। খবর পেয়ে ঘটনার দিন বিশ^ম্ভরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত আহত অবস্থায় আব্দুল হামিদ স্বপনকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় এবং সন্ত্রাসী কাশেমকে আটক করেন। এসময় আহত স্বপনের ভাই বাদী হয়ে আবুল কাশেম, কবির হোসেন,নবী হোসেন,ইফরান,নাজমা আক্তার, আসমা আক্তার, নজরুল ইসলাম, মানিক মিয়া,এই ৯জনের নাম উল্লেখ্য করে এবং অজ্ঞাত নামা কয়েকজনকে আসামী করে বিশ^ম্ভরপুর থানা ১টি মামলা করেন। যার মামলা নং-৭/৫৫,তারিখ ১৭/৪/২০২১ইং পুলিশ আবুল কাশেমকে আটক করে আদালতে পাঠান।
অন্যদিকে আহত আব্দুল হামিদ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা ৮দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবস্থার অবনতির কারনে ডাক্তার থাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফাট করেন। ২৫এপ্রিল আব্দুল হামিদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেটে মৃত্যু বরণ করেন। ২৬এপ্রিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরাদেহ ময়না তদন্ত শেষে সুনামগঞ্জ নিজ গ্রাম সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাদেরটেক খবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। তার এমন নির্মম অকাল মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া সারাগ্রামের মানুষের আহাজারিতে আকাশ বাতাস বারি হয়ে উঠে।
এব্যাপারে বিশম্ভরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুরঞ্জিৎ তালুকদার জানান আব্দুল হামিদ স্বপনের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমরা মর্মাহত হয়েছি এবং তার শোক সমপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এই হত্যা কন্ডের সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে